বেসিক

ইন্টারনেট কি? ইন্টারনেটের ব্যবহার! Best of 20s

ইন্টারনেট এর সকল কিছু

ইন্টারনেট শব্দটি কে না জানে না! তবে ইন্টারনেট কি, ব‍্যবহার কি সঠিকভাবে জানি? তো চলুন জেনে নেওয়া যাক

ইন্টারনেট কি

বস্তুত ইন্টারনেট কোন এক বিষয় নয়। অসংখ্য নেটওয়ার্কে সমন্বয়ে তৈরি বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট বলে। ইংরেজিতে ইন্টারনেট একে Inter Networking বা  World Wide Electronic Network বলে।

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে পরস্পরের সাথে অতি অল্প সময়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে ইন্টারনেট নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এখন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সূচনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ 1969 সালে প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করে। পারমাণবিক আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে গড়ে তুলেছিল। শুধু চারটি কম্প টেলিফোনের বিকল্প হিসেবে পদ্ধতি চালু হয়।

‘ডার্পানেট’ নামে পেন্টাগনের এই যোগাযোগব্যবস্থা 3 বছরের অর্পানেট নাম ধারণ করে। তখন কম্পিউটারের সংখ্যা 4 থেকে বেড়ে 33টিতে উন্নীত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন জনসাধারণের  যোগাযোগ সুবিধা দানে ‘নেস্টেনেট’  নামক একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করে।

গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ‘নেস্টেনেট’ নাম পরিবর্তিত হয়ে’ ইন্টারনেট’ নাম ধারণ করে। বর্তমানে বিশ্বব‍্যাপী প্রায় 90 মিলিয়ন কম্পিউটার  ব্যবহারকারী আছে।এই সংখ্যা প্রতিদান  বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইন্টারনেট কি

ইন্টারনেট কি

ইন্টারনেট ব্যবহারের নিয়মনীতি

ইন্টারনেট ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি আছে। এ নিয়ম-নীতিকে বলা হয় ইন্টারনেট প্রটোকল। দুই বা তার চেয়ে বেশি কম্পিউটারের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রয়োজন না থাকলে নেটওয়ার্কের কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানে যোগাযোগ সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশের ইতিহাস 1947–1954 ।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম করা যায়। এর মধ্যে TCP (Transmission Control Protocol) বা IP (Internet Protocol) সবচেয়ে দক্ষ আর পুরনো প্রটোকল।অনেক বড় আকারের ফাইলও মাধ্যমে  অতি সহজে আদান-প্রদান করা যায়। ইন্টারনেটে নিয়মাবলী ও কর্মকান্ড সুসম্পন্নের জন্য তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠান কাজ করে।

ইন্টারনেট কি। এগুলো হচ্ছে,

1. Internet Network Information Centre: এটি ডোমেইন নাম (G.V.) রেজিস্ট্রারের কাজ করে।

2.Internet Society : এটি ইন্টারনেট প্রকৌশল নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে ক্লিয়ারিং হাউস হিসেবে কাজ করে।

3.World Wide Web Consortium : এটি ভবিষ্যতের ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা নির্ধারণের কাজ করে।

ইন্টারনেট ব্যবহার পদ্ধতিঃ ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য কম্পিউটার, মডেম, টেলিফোন লাইন এবং ইন্টারনেট প্রোভাইডার এই চারটি জিনিসের দরকার। প্রথমে কম্পিউটারে তথ‍্যাদি টাইপ করে মেমোরিতে রাখতে হয়।পরে সুবিধামতো নেটওয়ার্কিং সফটওয়্যার মাধ্যমে তা প্রাপকের কাছে পাঠানো হয়।

এটি সাধারণত টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে তথ্যাদি প্রেরণ উপযোগী করতে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে  তথ্য দিকে ডিজিটাল থেকে এনালগ এবং এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করে। টেলিফোন লাইন তথ‍্যাদি স্থানান্তরের  কাজে সহায়তা করে। এছাড়া ইন্টারনেটের কোন প্রক্রিয়াই সম্ভব না।

কারণ এ লাইনের স্পিডের উপর নির্ভর করে তথ‍্যাদির দ্রুত স্থানান্তরিত হওয়া। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার মূলত ব‍্যবহারের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট একটি চার্জ নিয়ে তাদের নিজস্ব শক্তিশালী কম্পিউটার ফাইবার অপটিকস এর মাধ্যমে  দেশ-বিদেশের অন‍্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার

বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু হয় 1993 সালে। পরবর্তী সময়ে  1996 সালে ISN ( Information Service Network )  নামের একটি ফার্মের সার্ভার স্থাপন করে অনলাইন ইন্টারনেটের সংযোগ দেওয়া শুরু হয়।সেই সময় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল 1 হাজারের কিছু বেশি।

2001 সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় 60 হাজারে। বর্তমানে প্রায় 50 লাখ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের জন্য 12 টি প্রতিষ্ঠান অনলাইন সংযোগের কাজ করে যাচ্ছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা

ইন্টারনেট হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সুবিধা যা সারা বিশ্বে আন্তঃযোগাযোগ স্থাপনের পথ সহজ করে দিয়েছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।

ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে মানুষের জীবনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে অল্প সময়ে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে তথ্য আদান-প্রদান করা যায় বলে মানুষ তো ব্যাপক সুবিধা লাভ করেছে।

কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন? ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার আগে করণীয়?

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিনোদন, কৃষি উৎপাদন, জীব-বৈচিত্র‍্য, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ অবারিত হচ্ছে। ইন্টারনেটের সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া যেকোন ঘটনা বিশ্ববাসী জানতে পারছে।

ইন্টারনেট কি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ নানা জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ অনলাইনে বই পড়ার সুযোগ লাভ করছে। এছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারের নেতিবাচক দিক

ইন্টারনেট ব্যবহার মানুষের যেমন সুযোগ সুবিধা এনে দিয়েছে তেমনি কিছু অসুবিধা সৃষ্টি করেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত আসে এমন তথ্য দিয়ে জাতিবিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিচ্ছে।

নানান রকম মিথ্যা ভুয়া সংবাদ প্রেরণ করে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া মানবিক মূল্যবোধ ও   নৈতিক চরিত্র হরণের মত নানা রকম বিষয়ের অবতারণা করছে। ফলে পর্নোগ্রাফি, জুয়া, ব্ল্যাকমেইলিং ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিভিন্ন সংস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেটে ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার নষ্ট করে দিচ্ছে। ঘরে বসে বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণের মতো কাজও ইন্টারনেটের সাহায্য করছে কেউ কেউ।এগুলো আমাদের জন্য অভিশাপ’ ডেকে আনছে।

যেকোনো প্রযুক্তির ব্যবহার ও তার উপকারিতা নির্ভর করে তার ইতিবাচক ব্যবহারের উপর। ইন্টারনেটের সেই অর্থে ব্যবহৃত হলে মানুষের কল্যাণের পথ আরো সুগম হবে। এক কথায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মানুষের সার্বিক কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ বা খেয়ালে ব‍্যবহার করা যাবে না। ইন্টারনেট কি।

Ragib Hasan Abid

Read for your Learning, Not for the Exam.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button