বেসিক

কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন? ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার আগে করণীয়? Best for 2021

কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন! কেনার আগে করণীয় কি!

বর্তমানে বাংলাদেশের ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানির অভাব নেই। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখা যায় তাদের প্রমোশনাল এডস গুলো। অনেকেই আবার গুগলে সার্চ করে থাকেন। বাংলাদেশের সেরা হোস্টিং কোম্পানি কোনটি?

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কেউ কেউ আবার কম টাকায় ডোমেইন হোস্টিং কিনতে গিয়ে অনেকেই ধরা খান!

তো আজকে আমি আলোচনা করব, ডোমেইন হোস্টিং কেনার আগে কোন বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা দরকার? এবং কোন কোম্পানি থেকে আপনার ডোমেইন হোস্টিং কিনতে পারবেন? কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন? কিভাবে বুঝবেন এটা ট্রাস্টেড কম্পানি?

ট্রাস্টেড কম্পানি?

প্রথম প্রথমেই আপনি যে কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনতে যাচ্ছেন। অবশ্যই সেটার সম্পর্কে খোঁজ নিবেন। ধরুন সেটা কত বছর ধরে সার্ভিস দেয়। আপনি সেটা গুগল করলেই পেয়ে যাবেন। অথবা ফেসবুকে একটু ঘাটাঘাটি করলে পেয়ে যাবেন।

তো কমপক্ষে দুই বছর আগে থেকে সার্ভিস দেয় এমন হোস্টিং কোম্পানি থেকে হোস্টিং নিবেন।

এছাড়াও আপনারা একটা কাজ করতে পারেন। সেটা হলো বিভিন্ন ডোমেইন হোষ্টিং রিলেটেড গ্রুপ গুলোতে সেই হোস্টিং কোম্পানি টি কেমন! সেটা জিজ্ঞেস করে পোস্ট দিতে পারেন। ব্যবহারকারীরা আপনাকে কমেন্ট এই বলে দিবে।

সার্ভিস কেমন?

ডোমেইন হোস্টিং কিনার আগে অবশ্যই খোজ নিবেন। আপনাকে সেই কোম্পানি কি আপনাকে সকল কিছুর পূর্ণ কন্ট্রোল দিবে?

অনেক সময় দেখা যায়, অনেক ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানি খুবই অল্প দামে ডোমেইন হোস্টিং প্রভাইড করে। সে সময় তারা ডোমেইনটি থার্ড পার্টি সাইট থেকে কিনে দেয়। যেমন, Godaddy.com, 123reg.com

যার কারণে তারা আর ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেল দেয় না। আবার অনেক কম্পানি ঠিকমত হোস্টিং এর এক্সেস দেয় না। অনেক কম্পানি আবার ক্রাক হোস্টিংও দিয়ে থাকে। যেটা পুরোপুরি অবৈধ।

পড়ুন, ডোমেইন হোস্টিং কি?

তো অবশ্যই ডোমেইন হোস্টিং কেনার আগে এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন। দরকার পরলে তাদের সাপোর্ট এ যোগাযোগ করে নিবেন।

কেমন সার্পোট দিবে?

ডোমেইন হোস্টিং কেনার আগে কম্পানিটির সাপোর্ট সিস্টেমটা চেক করে নেবেন। কারণ অনেক সময়ই দেখা যায়, সাপোর্ট এর অভাবে আপনার সাইটটি দীর্ঘ সময় ডাউন থাকতে পারে। আবার আপনার ওয়েবসাইটটা ডাউন হয়ে গেছে বা কোনো সমস্যা হয়েছে।

কিন্তু সেই প্রয়োজনের সময় আপনি তাদেরকে পেলেন না। তাছাড়াও হোস্টিং রিলেটেড আপনার অনেক সমস্যা থাকতে পারে। এখন তারা যদি এই সাহায্য না দিতে পারে। তাহলে তাদের থেকে  ডোমেইন হোস্টিং নেওয়ার দরকার নেই।

তো এসব বিষয়গুলি নজরে রাখা প্রয়োজন। আপনি তাদের কাছ থেকে সাহায্য চাইলে। তারা যেন আপনাকে সাহায্য করে। কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন।

কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন

কেমন হোস্টিং নিবেন?

এডঅন ডোমেইন

আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য কত জিবি হোস্টিং নেওয়ার সেরা হবে? কোন ডোমেইনটা নেওয়া ভালো হবে?

ধরুন আপনি একটা ব্লগ সাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন। তো সেক্ষেত্রে ১ জিবি হোস্টিং এই হয়ে যাবে। একটা ব্লগ সাইটের জন্য খুব বেশি স্পেস লাগে না। এই ১ জিবি পূরণ করতেই ৬ মাসের বেশি সমস্যা লেগে যাবে।

কিন্তু আপনি কিছুদিন পর ভাবলেন, আপনি এই প্যাকেজেই আরেকটা ওয়েবসাইট রান করাতে চাচ্ছেন।

কিন্তু গিয়ে দেখলেন যে আপনার সেই হোস্টিং এর কোনো ডোমেইন অ্যাড করতে পারবেন না। এই ধরনের বিষয় থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবশ্যই খেয়াল করবেন। সেই হোস্টিং এ কয়টা Addon Domain অপশন রয়েছে।

যেমন, একটা Addon Domain থাকলে মেইন ডোমেইন বাদেও। আরেকটা ডোমেইন এড করতে পারবেন।

আর আপনার যদি ই-কমার্স বা অন্য কোনো সাইট হয় সেক্ষেত্রে বেশি স্পেস নিতে হবে। কমপক্ষে ৫ জিবি হোস্টিং নিতেই হবে।

ব্যান্ডউইথ

প্রতিটি কোম্পানিই হোস্টিং এর সাথে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যান্ডউইথ প্রদান করে থাকে। এখন আপনার ওয়েবসাইটে যদি খুব ভালো ভিজিটর হয়ে থাকে। তাহলে সেখানে আপনার ব্যান্ডউইথ কিন্তু শেষ হয়ে যেতে পারে।

আর যদি আপনার সাইটের ব্যান্ডউইথ শেষ হয়ে যায়। তাহলে সেই মাসের জন্য আপনার ওয়েবসাইটটি ডাউন হয়ে যাবে। কারণ ব্যান্ডউইথ মাসিকভাবে প্রদান করা হয়।

যেমন, আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য এক মাসের জন্য ৫০ জিবি ব্যান্ডউইথ বরাদ্দ থাকবে।

সেজন্য আপনারা লক্ষ্য রাখবেন। আপনার সাইটের ভিজিটর অনুযায়ী আপনার হোস্টিং কোম্পানি। কত জিবি ব্যান্ডউইথ আপনাকে প্রদান করছে! এবং আপনার যদি সমস্যা হয়। তাহলে কি তারা আপনাকে ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে দিবে কিনা! কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন।

ব্যাকআপ

বলতে গেলে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হোস্টিং এর ক্ষেত্রে। কারণ ব্যাকআপ ছাড়া আপনার হোস্টিং টা পুরোপুরি ভাবে অনিরাপদ।

আপনার হোস্টিং এ কোনো কিছু ডিলিট হয়ে গেলে। বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে আপনার সাইটের ডাটা গুলো যদি হারিয়ে ফেলেন। সেক্ষেত্রে আপনার সাইটটা রিকভার করার জন্য কিন্তু ব্যাকআপ এর প্রয়োজন হয়।

এখন আপনার কোন ভাবে আপনার ওয়েবসাইটে সকল ডাটা আপনি হারিয়ে ফেললেন। আর আপনার পার্সোনাল ভাবে নিজস্ব কোন ব্যাকআপ নেওয়া ছিল না। তো সেই ক্ষেত্রে কি করবেন!

সেক্ষেত্রে কিন্তু আপনার পুরো ওয়েবসাইটই হারাতে হবে। আপনার এত দিনের সকল কাজ নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে।

আমার নিজ একটা অভিজ্ঞতা থেকে বলি। আমি একটা ফালতু কোম্পানি থেকে হোস্টিং নিছিলাম। প্রায় ২০ দিন একটা সাইটে কাজ করার পরে। একটা ফাইল ডিলিট করতে গিয়ে পুরো ফাইল ম্যানেজার এর সব কিছু ডিলিট করে ফেলি। যার ফলে পুরো ওয়েবসাইটটি ডিলিট হয়ে যায়।

এখন আমি হোস্টিং প্রোভাইডার এর সাথে কথা বলে দেখি। তাদের কাছে কোনো ব্যাকআপ নেই। আমি নতুন ছিলাম। যার ফলে আমার কাছেও কোনো প্রকার ব্যাকআপ ছিলনা।

কিন্তু বর্তমানে আমি যাদের থেকে হোস্টিং নিয়েছে। তারা ডেইলি ব্যাকআপ কালেক্ট করে রাখে। এবং সেটা সাতদিন পর্যন্ত তাদের সার্ভারে রাখে।

অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটে সকল ডাটা হারিয়ে গেলেও সাতদিন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে। সেই ব্যাকআপটি সংগ্রহ করে আবার আপনার সাইটটা রেডি করতে পারবেন।

তাছাড়াও তারা কয়টা ডাটাবেজ, ইমেইল একাউন্ট, সাব-ডোমেইন দিবে অই গুলোতেও লক্ষ রাখবেন।

অনেকে আমার প্রশ্ন করতে পারেন বাংলাদেশের সেরা হোস্টিং কোম্পানি কোনটি? আমি কোথায় থেকে হোস্টিং কিনবো?

কোথায় থেকে হোস্টিং কিনবেন

প্রথমে আমি আপনাদেরকে Namecheap.com এর ডোমেইন হোষ্টিং ব্যবহার করার জন্য সাজেস্ট করবো। কারণ এরা পুরো পৃথিবী ব্যাপি সার্ভিস দেয়। ২০০০ সাল থেকে এরা এই সেবা প্রদান করে আসছে।

Namecheap থেকে পৃথিবীর বড় বড় ওয়েবসাইটগুলো ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে থাকে। যার ফলে আপনারাও নির্ভয়ে Namecheap থেকে ডোমেইন হোস্টিং কিনতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে Card, Bitcoin, Paypal। এই মাধ্যম গুলোতে পে করতে হবে।

তাছাড়াও বাংলাদেশি ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানি বলতে। আমি দুইটা কোম্পানি কে সাজেস্ট করবো।

১. Hostever.com
২. Exonhost.com

এরা মূলত BDIX হোস্টিং সাজেস্ট করে। যেটা বাংলাদেশী ভিজিটর দের জন্য খুবই তাড়াতাড়ি কাজ করে। যেখানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ হোস্টিং কোম্পানিই  রিসেলার।

সেখানে এদের নিজস্ব হোস্টিং সার্ভার রয়েছে। আর এদের কাস্টমার সার্ভিসের কথা না বললেই নয়।

পড়ুন, আপনার ওয়েবসাইটের জন্য যে 3 টি প্লাগিন জরুরি।

আপনি তাদের লাইভ সার্পোট এ নক দেওয়ার ১-২ মিনিটের ভিতর আপনার রিপ্লাই পেয়ে যাবেন। কাস্টমার দের খুব ভালোভাবে সাহায্য করে।

আমি মূলত Hostever এর হোস্টিং ব্যবহার করি। এদের আগের নাম ছিল Codeforhost। আপনারা Exonhost এর হোস্টিংও ব্যবহার করতে পারবেন।

কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন

হোস্টিং কেনার জন্য আপনার পছন্দের যে কোনো হোস্টিং কোম্পানির ওয়েবসাইটে চলে যাবেন। এরপর আপনি কোন প্যাকেজটা কিনতে চাচ্ছেন! সেখানে গিয়ে Buy Now এ ক্লিক করে দিবেন।

এবার আপনাকে ডোমেইন কিনতে বলবে। আপনি যদি এখান থেকে ডোমেইন কিনতে চান। তাহলে আপনার ডোমেইন নামটি দিয়ে চেক দিবেন।

আর আপনার ইতিমধ্যে ডোমেইন কিনে থাকে। বা আপনি অন্য কোথাও থেকে ডোমেইন কিনতে চান। তাহলে “I will use my existing domain and update my nameserver” দিবেন।
কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন

এখানে অবশ্যই আপনার ডোমেইন নেম এবং এক্সটেনশনটি দিয়ে দেবেন। হোস্টিং কেনার আগে অবশ্যই আপনার ডোমেইনটি কিনে নিবেন।

এবার আপনাকে Checkout করতে বলবে। আপনার কোনো প্রোমো কোড থাকলে সেটা দিবেন।

আপনাকে এই ওয়েব সাইটে একাউন্ট খোলার জন্য। আপনার সকল ইনফরমেশন দিতে বলবে। আর আপনি যদি ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্ট খুলে থাকেন। তাহলে সেখানে লগইন দিয়ে দেবেন।

এখন আপনাকে পেমেন্ট গেটওয় নিয়ে যাবে। এখান থেকে আপনাকে পে করতে হবে। বর্তমানের প্রায় সকল কোম্পানি গুলোই পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে। যার ফলে পে করার সাথে সাথেই। অটোমেটিক আপনার হোস্টিং একটিভ হয়ে যাবে।

আপনি অনলাইন পেমেন্টগুলো বেছে নিতে পারেন। যেখানে বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ড। এগুলোর মাধ্যমে পে করা যাবে।

বিদ্রঃ আপনাকে বিকাশ, নগদ বা রকেট একাউন্টে পাসওয়ার্ড দিতে বলবে। এখানে পাসওয়ার্ড বা ভেরিফিকেশন কোড দিলে আপনার একাউন্টে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। কারণ এটা একটা গেটওয়ে মাত্র।

আপনার পে করা হয়ে গেলে। তারা ডোমেইন হোস্টিং এর সকল ডিটেলস আপনার ইমেইলে তারা পাঠিয়ে দিবে। সেখানের সকল ডিটেলস গুলো দিয়ে আপনার ডোমেইন এবং হোস্টিং দুটোই কন্ট্রোল করতে পারবেন।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন? এগুলো কেনার আগের করণীয় বিষয় গুলো।

Ragib Hasan Abid

Read for your Learning, Not for the Exam.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button